কারাবন্দী বগুড়ার আরেক আ. লীগ নেতার মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি শাহনুর আলম শান্ত (৫৫) মারা গেছেন। তিনি কারাবন্দি ছিলেন। তিনি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবলাইল গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলী প্রামাণিকের ছেলে।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন বগুড়া কারাগারের জেলার নুরুল মুবিন।
কারা সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া সদরের একটি বিস্ফোরক মামলায় গত ৪ জানুয়ারি শাহনুর আলম শান্তকে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১৭ জানুয়ারি তাঁকে বগুড়া কারাগার থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
বগুড়া কারাগারের জেলার নুরুল মুবিন বলেন, মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার তায়েবা বলেন, অসুস্থ হয়ে পড়ায় শাহনুর আলম শান্তকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এর আগেও দুবার অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর বেশি কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই অমিত হাসান বলেন, সুরাইয়া জেরিন নামের এক বিএনপি নেত্রীর হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক মামলায় তাঁকে শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা রজব আলী দাবি করেন, গত ৪ জানুয়ারি শান্ত বগুড়া নারুলী কৃষি ফার্ম এলাকায় সদর থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে সেদিন রাত ১২টার পর স্থানীয় কিছু লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এরপর তাকে বগুড়া জেলা আদালতে প্রেরণ করে সদর থানার পুলিশ। সেখান থেকে শান্ত ঢাকার কেরানিগঞ্জ কারাগারে ছিলেন। ২০১৮ সালের একটি সড়ক দুর্ঘটনায় শান্ত তার ডান পা হারান এবং তার ডান হাতেও রড ঢোকানো রয়েছে। তিনি কৃত্রিম পায়ের সহায়তায় চলাচল করতেন। শান্ত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও সুচিকিৎসার অভাবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
রজব আলী আরও অভিযোগ করেন, চাঁদা দিতে না পারায় বগুড়া শহরের নাড়ুলী এলাকা থেকে ‘মব সন্ত্রাসের’ মাধ্যমে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং পরে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শান্তর ছোটভাই ফারুক মিয়া বলেন, শান্তর একমাত্র মেয়ে বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুলের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মেয়েটি ইয়াতিম হয়ে গেল। কারাগার থেকে লাশ গ্রহণ করতে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। শান্তর গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করার প্রস্তুতি চলছে।