জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে আকবরিয়ার দোয়া ও ছিন্নমূলদের মাঝে উন্নতমানের খাবার বিতরণ

প্রকাশ: ০৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৯:১৪ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে বার।

গভীর রাত। নগরজুড়ে যখন দিনের কোলাহল স্তিমিত হয়ে আসে, তখনই বগুড়া শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে আকবরিয়া গ্র্যান্ড হোটেলের সামনে জড়ো হন ছিন্নমূল, অসহায় ও অভাবী মানুষ। ১১৪ বছর ধরে প্রতিরাতেই নতুন করে রান্না করা উন্নতমানের খাবার তুলে দেয় তাদের হাতে। প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আকবর আলী মিঞার সূচনা করা এই মানবিক উদ্যোগ আজও অব্যাহত রেখেছেন তাঁর উত্তরসূরিরা। আর জাতীয় ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে এই আয়োজন আরও বিস্তৃত হয়ে ওঠে বিশেষ খাবার পরিবেশন ও মানবিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। 

 

 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে বগুড়া শহরের আকবরিয়া গ্র্যান্ড হোটেলের সামনে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের মাঝে তেহারি ও পায়েস বিতরণ করা হয়। 

 

 

দিবসটি উপলক্ষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহতদের দ্রুত আরোগ্য, তাদের পরিবার-পরিজনের কল্যাণ এবং দেশের শান্তি, নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

 

 

আকবরিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই শত বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা গভীর রাতে বিনামূল্যে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করে আসছি।

 

 

আকবরিয়া লিমিটেডের সিইও ইব্রাহীম মাসুম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণ ও ছাত্রসমাজের সাহসী ভূমিকা চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। 

 

 

উল্লেখ্য, আকবরিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ব্যবসার আয়ের একটি অংশ ব্যয় করে প্রতিদিন গভীর রাতে ছিন্নমূল ও অভাবী মানুষের জন্য নতুন করে রান্না করা খাবার বিতরণ করে আসছে। ১১৪ বছরের এই মানবিক উদ্যোগ বগুড়ায় সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিত।