কাহালুতে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের নেশায় ঝুঁকছে মাদকসেবীরা

মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু (বগুড়া)
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ ২০:২২ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে ১২ বার।

হেরোইন ও ইয়াবার বিকল্প মাদক হিসেবে ব্যথানাশক ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে বগুড়ার কাহালু উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাদকসেবীরা। আগে পুলিশের অভিযানে গাঁজা, হেরোইন কিংবা ফেনসিডিল উদ্ধারের খবর বেশি পাওয়া গেলেও বর্তমানে মাদক হিসেবে ট্যাপেন্টাডল উদ্ধারের ঘটনাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

ব্যথানাশক ট্যাবলেট ট্যাপেন্টাডল ২০২০ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ‘খ’ শ্রেণির মাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশে এর উৎপাদন ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হয়। দেশে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কাহালুসহ বিভিন্ন এলাকায় এর ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, নিষিদ্ধ হওয়ার পরও মাদকসেবীদের হাতে কীভাবে পৌঁছাচ্ছে এই ট্যাবলেট?

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে চোরাইপথে ট্যাপেন্টাডল দেশে আনছে মাদক চক্র। পরে কুরিয়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এসব ট্যাবলেট দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ীরা সেগুলো স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও যুবকদের কাছে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে উপজেলার নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় ট্যাপেন্টাডল সেবনের প্রবণতা থাকলেও বর্তমানে এর বিস্তার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। কাহালু থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার ও খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হলেও এই মাদক কোথা থেকে আসছে, তার সুনির্দিষ্ট উৎস এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপর থেকে থানা পুলিশও তৎপরতা বাড়িয়েছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

কাহালু থানা পুলিশের তথ্যমতে, দেশে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও চোরাইপথে ইয়াবার পাশাপাশি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটও দেশে প্রবেশ করছে। পুলিশের দাবি, উপজেলায় বড় কোনো মাদক চক্রের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ছোট ছোট কয়েকটি চক্র বিভিন্ন স্থান থেকে অল্প পরিমাণে ট্যাপেন্টাডল এনে বিক্রির চেষ্টা করছে। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানায়, ইয়াবার দাম বেশি হওয়ায় অনেক মাদকসেবী তুলনামূলক কম দামের ট্যাপেন্টাডলের দিকে ঝুঁকছে। মাদক নির্মূলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “সাম্প্রতিক একাধিক অভিযানে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ও বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।”