একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠি এই সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
নওগাঁ প্রতিনিধি
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে কবির স্মৃতি বিজড়িত নওগাঁর পতিসর কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী জন্ম বার্ষিকী উৎসব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রায়ের পতিসর রবিন্দ্র কাচারি বাড়িতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠি আছে, তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা বিভিন্ন সময় এই সমাজকে আবার অস্থির করে রাখতে চায়। আমি কোন নিদিষ্ট দল বা ব্যক্তির কথা বলতে চাইনা। আমাদের রাজনীতি সুন্দর-পরিচ্ছন্ন না। বারবার মানুষেরা পরিবর্তনের জন্য লড়ায় করেছে, প্রাণ দিয়েছে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে পরিবর্তন আসেনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি শুধু বলতে চাই আমাদের যে মূল জায়গাটা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ। আমাদের যে সক্রিয়তা ও পরিচয় আমরা বাংলাদেশি তা সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। নয়মাস যুদ্ধ করেছি। এই যুদ্ধ করেই আমরা স্বাধীনতা নিয়ে এসেছি। আবার গনতন্ত্র ফিরিয়ে পেয়েছি লড়াই করেই। এমনি এমনি গনতন্ত্র ফিরি পাইনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা সবাই মিলে যে লড়াইটা করলো। আমরা একে বলি জুলাই যুদ্ধ। পরিবর্তন এসেছে। নতুন নির্বাচন হয়েছে। মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে আছে। যারা ফ্যাসিস্ট ছিলো তারা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। অর্থনীতিকে বিদেশে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে। প্রশাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে লড়ায় করেই আমরা আজকে এই অবস্থাতে এসেছি। অনেকেই চেষ্টা করছে এই পরিবর্তনটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে। ছোটখাটো ইশ্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করতে। আমরা কেউ চাইনা আর দেশে কোন গোলযোগ হোক।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রবীন্দ্রনাথ এখানে যখন আসতেন তিনি কৃষকদের দুঃখ দূর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি কাজ শুরু করেছিলেন। এটি তার জীবন, কাজ ও কবিতার বাইরের ব্যপার ছিলো। রবীন্দ্রনাথের কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক, গান সকল ক্ষেত্রে অবাধ বিচরন ছিলো। তিনি গীতাঞ্জলি লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্ব মানবতার কবি। আমার প্রায় মনে হয় রবিন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও পড়া শেষ করা যায়না।
তিনি বলেন অত্র এলাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এলাকার কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু করে ছিলেন,ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকার প্রধান তারেক রহমান কৃষকদের কার্ড প্রদান করে, তাদের ভাগ্য উন্নয়নে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন সরকার গঠনের প্রায় তিন মাসের মধ্যে দেশের পরিবর্তন শুরু হয়েছে। তিনি বলেন বিগত ফাসিষ্ট সরকার দেশের অর্থনীতি,
ব্যাংক বীমাসহ বিভিন্ন সেক্টর ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সেই অবস্থা থেকে দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই বলেন বর্তমান সরকার ভারতপন্থী, আমেরিকা পন্থী,চীন পন্থী। কিন্তু আমরা কোন পন্থী নই। আমরা বাংলাদেশ পন্থী। কারন তারেক জিয়ার স্লোগান " সবার আগে বাংলাদেশ"। এই স্লোগানের মধ্যে অনেক অর্থ রয়েছে। সেই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নানা পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। দেশ উন্নয়নে আপনারা সকলে এগিয়ে আসবেন বলে সকলের প্রতি আহবান জানান।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ,ন,ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু,
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম,জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু,স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম,সাবেক রাষ্ট্রদূতমু এম মুশফিকুল ফজল,দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালে উদ্দিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
আরো উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু, রাজশাহী উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক, নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
বিকেলে কবির জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিক বিভাগের অধ্যাপক ড.মোঃ হারুন ও রশিদ।
আলোচনা সভা শেষে ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনভর হাজারো দর্শনার্থী ও কবি ভক্তদের পদচারনায় মুখুর ছিল পতিসর। এছাড়া পতিসর কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গনে বসেছে রবীন্দ্র গ্রামীণ মেলা।