রাণীনগরে বিস্তীর্ণ জুড়ে ইরি-বোরো ধানের সবুজের সমারহ

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ ১৭:১২ ।
প্রতিবেশী জেলা
পঠিত হয়েছে বার।

 বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন ইরি-বোরো ধান গাছের সবুজ রংঙের বর্ণিল সমারহ। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। এ সবুজ রং বলে দিচ্ছে গ্রামবাংলার কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা ইরি-বোরো ধান চাষের দৃশ্য। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের ভাল ফলনের বুকভরা আশা করছে চাষিরা। বৃহস্পতিবার সকালে এক পসলা বৃষ্টিতে ধানের গাছ ধূয়ে যাওয়ায় ধানের গাছগুলো আরো সতেজ হয়েছে। শেষ মূহুর্তে তেমন কোন রোগ-বালাই দেখা না দিলেও কৃষকরা ইরি ধানের ক্ষেতে নিবির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম ধান চাষ করায় কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকায় ইরি-বোরো ধানের ভাল ফলনের সম্ভবনা রয়েছে বলে কৃষি বিভাগ মনে করছেন। 

রাণীনগর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এবার রাণীনগরে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভীর নলকূপ ২৫৭টি, বিদ্যুৎ চালিত ব্যক্তিগত ২০৮টি, নদী থেকে এলএলপি বিদ্যুৎ চালিত পাম্প ৪০টি’র মাধ্যমে আবাদি ইরি-বোরো ধান ক্ষেতে সেচ প্রদান করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সঠিক সময়ে চারা লাগানো নিবিড় পরিচর্যা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যথা সময়ে সেচ দেওয়া, সার সংকট না থাকায় চলতি মৌসুমে ধানের ভাল ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। 

সরজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। রাণীনগরে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত ধান গাছের সবুজের সমারোহে বিস্তীর্ণ মাঠ দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। ইরি-বোরো ধান চাষের অনুকূল আবহাওয়া থাকাই যথা সময়ে ধান চাষ করেছে চাষিরা। উপজেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করছেন মাঠ পর্যায়ে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা আইপিএম (বালাই সমন্বিত শষ্য ব্যবস্থাপনা) ক্লাবের মাধ্যমে আলোক ফাঁদে এবং ইরি-বোরো ক্ষেতে কুঞ্চি ও গাছের ডাল পুঁতে পোকা মাঁকড় নিধনে কৃষকদের উৎসাহিত করায় রোগবালাই কম দেখা যাচ্ছে। উপজেলার হরিশপুর গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান জানান, আমি প্রতি বছরই ইরি-বোরো ধান লাগায়। এ মৌসুমে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে ইরি- বোরো ধান লাগায়ছি। আবহাওয়া ভালো থাকার কারণে এখন পর্যন্ত ক্ষেতের ধান ভালো আছে। আশা করি শেষ মহুর্তে সব ঠিকঠাক থাকলে ভালো ফলন পাবো। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ আফিসার কৃষিবিদ জাহিদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান চাষ হয়েছে। ভাল ফলনের সম্ভাবনার মূল কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে সঠিক সময়ে চারা লাগানো পরামর্শ, নিবিড় পর্যাবেক্ষন, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, সার সংকট না থাকা, যথা সময়ে সেচ দেওয়া, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং আধুনিক পদ্ধিতিতে ধান চাষ করায় শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রাণীনগর উপজেলায় ইরি-বোরা ধানের ভাল ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।