বগুড়ায় যমুনার হিমেল বাতাসে উষ্ণতার বার্তা নিয়ে পাশে দাঁড়াল মুনলাইট
স্টাফ রিপোর্টার
দুঃখ, কষ্ট, অভাব আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ—এই চার শব্দই যেন চরবাসীদের জীবনের নিত্যসঙ্গী। বন্যা আসে, ঘর ভাঙে, ফসল ভেসে যায়। তার পর আসে শীত—নীরবে, নির্মমভাবে। উত্তরের জনপদে শীত মানেই নতুন এক যুদ্ধ, আর চরবাসীদের কাছে তা বেঁচে থাকার লড়াই।
বগুড়ার সারিয়াকান্দির চরবাটিয়া ও আশপাশের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। যতদূর চোখ যায়, ধু ধু বালুচর আর যমুনার বুক চিরে আসা হিমেল বাতাস। এই প্রতিকূল পরিবেশে মানুষের জীবন কেমন—নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। তীব্র শীতে ঘরে ঘরে উষ্ণতার জন্য হাহাকার।
এই শীতে চরবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক সংগঠন মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। মঙ্গলবার কুয়াশা ভরা সকালে বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা নদীর চরবাটিয়া ও আশ-পাশের কয়েকটি চরের অসহায় মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় শীতের কম্বল। পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিতরণ করা হয় সবজি বীজ ও প্রত্যেক পরিবারকে একটি করে গাছের চারা।
কম্বল বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ এনজিও ব্যক্তিত্ব ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের চিফ কো-অর্ডিনেটর আবু হাসনাত সাঈদ, মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি র নির্বাহী সদস্য মঞ্জুরুল হক টুটু, পল্লী স্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক শাহিন ইসলাম নয়ন, শিলদাহ বাড়ির সমাজ উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক নাজমা খাতুন, মুনলাইট কো-অর্ডিনেটর জনি ইসলাম ও নাসিদ আহমেদসড় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কম্বল পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি চরবাটিয়ার বৃদ্ধা রওশন আরা। কাঁপতে কাঁপতে তিনি বলেন, “নদীর ধারে শীতটা খুব বেশি লাগে। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। আজ এই কম্বল পেয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।”
একই এলাকার দিনমজুর শফিকুল ইসলাম জানান, “শীতের সময় কাজ কম থাকে। ঘরে বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে থাকি। এই কম্বল আর বীজ আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা।”
শুধু চরাঞ্চলেই নয়, একই দিন গাবতলী উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা শিলদহ বাড়ি ও হাতীবান্ধা গ্রামে প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝেও কম্বল বিতরণ করা হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা মানুষগুলোর জন্য এই সহায়তা এনে দেয় কিছুটা হলেও স্বস্তি।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাৎক্ষণিক শীত নিবারণের পাশাপাশি মানুষকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই বীজ ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে—যাতে আজকের সহায়তা আগামী দিনের আশায় রূপ নেয়।
যমুনার হিমেল বাতাসের মাঝেও এই মানবিক উদ্যোগ চরবাসীদের মনে জ্বেলে দিয়েছে উষ্ণতার আলো, আর প্রমাণ করেছে—মানবিকতা এখনো হারিয়ে যায়নি।