| প্রচ্ছদ

ঘটনাস্থল বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক

বগুড়ার নিশিন্দারা এলাকার বাবা হুজুর খুন

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে বার। প্রকাশ: ০৪ মে ২০২১ ১৫:৫০:৪৫ ।

বগুড়া শহরের নিশিন্দারা এলাকার ‘বাবা হুজুর’ নামে পরিচিত মোজাফফর হোসেন (৫৬)  আর নেই । নাটোরের সিংড়ায় গ্রামের বাড়ি থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় বগুড়া ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা শাজাহানপুর উপজেলার বীরগ্রাম এলাকায় তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। মঙ্গলবার সকাল পৌণে ১০টার দিকে হত্যাকাণ্ডের পর পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও বেলা ৩টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ কোন ক্লু পায়নি। 

নিহত মোজাফফর হোসেন নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার সুকাশ গ্রামের মৃত সাইদুল আলমের ছেলে। তিনি বগুড়া শহরের নিশিন্দারা কারবালা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। ওই এলাকার লোকজনের কাছে তিনি ‘বাবা হুজুর’ নামে পরিচিত ছিলেন।
বগুড়ার শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লা আল মামুন জানান, সিএনজি চালিত অটোরিকশায় মোজাফফর হোসেন ছাড়াও এক মহিলাসহ আরও ৪ যাত্রী ছিলেন। অটোরিকাশাটি ৯টা ৪৫ মিনিটে নাটোর-বগুড়া সড়কের বীরগ্রাম এলাকায় পৌঁছার পর মোটর সাইকেল আরোহী দু’জন তাদের গতিরোধ করে। এর পর পর মোটর সাইকেল আরোহীদের একজন মোজাফফর রহমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, বাবা হুজুর নামে পরিচিত মোজাফফর হোসেন প্রায় ৭ বছর আগে নিশিন্দারা ফকির উদ্দিন স্কুল ও কলেজের পাশে ‘আল জামিয়া আল আরাবিয়া দারুল হেদায়া কওমি হাফেজিয়া মাদ্রাসা’ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও খুলে বসেন। ওই প্রতিষ্ঠানে বসেই তিনি ঝাড়-ফুঁক ও তাবিজ লিখে জীবিকা নির্বাহ করতেন। করোনাকালে মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও বাবা হুজুর মাদ্রাসার একটি কক্ষে বসে ঝাড়-ফুক ও তাবিজ লেখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য মতে, মামলা- মোকর্দ্দমা, প্রেম-বিয়ে ও স্বামী-স্ত্রীর অমিলসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ তার কাছে আসতেন। তবে মঙ্গলবার দুপুরে নিশিন্দারা এলাকায় গিয়ে মাদ্রাসাটি বন্ধ পাওয়া গেছে। সাইন বোর্ডে থাকা দু’টি মোবাইল ফোন নম্বর কল করা হলেও কেউ রিসিভ করেন নি। তবে মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের একজন তার মৃত্যু ‘অন্য’ কারণে হয়েছে বলে এ প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেছেন। তবে সেই কারণ স্পষ্ট করতে রাজি হননি তিনি।
বাবা হুজুর নামে পরিচিত মোজাফফর হোসেন নিশিন্দারা কারবালা এলাকায় যে বাসায় ভাড়া থাকতেন সেটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। বাড়ির মালিক শুকুর আলী প্রামাণিকের ছেলে হেলাল উদ্দিন বলেন,  ৪/৫ বছর আগে বাবা হুজুর আমাদের তিন তলা বাসার দোতলা ভাড়া নেন। তার দুই স্ত্রীর মধ্যে প্রথম স্ত্রী গ্রামের বাড়ি সিংড়ায় বসবাস করেন। আর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তিনি এখানে থাকতেন।’ হেলাল উদ্দিন জানান, গ্রামে মোজাফফর হোসেনের ৩০/৪০ বিঘা জমি আছে। ধান কাটার জন্য তিনি ৪/৫দিন আগে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন। 
বগুড়ার শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লা আল মামুন জানান, ময়না তদন্তের জন্য লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। তার কাছে ওই হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,  ‘এ ব্যাপরে আমরা আমরা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। তদন্ত চলছে।’

মন্তব্য